মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২৬ - ১০:৫৩
৭ যিল হজ্জ ইমাম বাকির (আ.) এর শাহাদাত দিবস

৭ যিল হজ্জ মহানবীর (সা) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) মা'সূম বারো ইমামের ৫ম মা'সূম ইমাম হযরত মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনিল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবী তালিবের (আ) শাহাদাত

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।।

পর্ব১

৭ যিল হজ্জ মহানবীর (সা)  পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) মা'সূম বারো ইমামের ৫ম মা'সূম ইমাম হযরত মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনিল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবী তালিবের (আ) শাহাদাত দিবস। বনী উমাইয়া বংশীয় ষষ্ঠ খলীফা ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালেকের পুত্র ইব্রাহীম তাঁকে বিষ প্রয়োগ করলে

১১৪ হিজরীর ৭ যিল হজ্জ রোজ সোমবার ১০ম উমাইয়া বংশীয় খলীফা হিশাম ইবনে আব্দুল মালেকের শাসনামলে মদীনা নগরীতে তিনি ৫৭ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন।*১*

*১*আনওয়ারুল্ বাহিয়াহ্:নেগহী বে যেন্দেগীয়েচাহরদাহ্ মা'সূম্ (আ),পৃষ্ঠা:২২৫; নূরুল আবছার,পৃষ্ঠা:২৯২এ বর্ণিত হয়েছে:আবূ জাফার মুহাম্মদ আল-বাক্বির (আ) ১১৭ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন এবং মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর, আরেকটি অভিমতে বলা হয়েছে:৫৮ বছর..... আর দুরারুল আসদাফ্ গ্রন্থে (বর্ণিত আছে যে) তিনি (হযরত ইমাম বাক্বির) নিজ পিতার (ইমাম যাইনুল আবিদীন) মতো (বিষ প্রয়োগে করা হলে) বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন...

و في درر الأصداف مات مسموماً کأبیه......

আর আস-সাওয়ায়িকুল মুহরিক্বাহ গ্রন্থের ২৩৪ পৃষ্ঠায় (বর্ণিত আছে): তিনি (ইমাম বাক্বির) ৫৮ বছর বয়সে ১১৭ হিজরীতে তাঁর নিজ পিতার মতোই (বিষ প্রয়োগের ফলে)

বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তারীখুল খামীস ফী আহওয়ালি আনফাসি নাফীসের,২য় খণ্ডের ২৮৬ পৃষ্ঠায়: তিনি (ইমাম বাক্বির) ১১৭ হিজরীতে (মতান্তরে ১১৮ হিজরীতে এবং আরেক মতে ১১৪ হিজরীতে) মদীনায় মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স ছিল ৭৩ বছর, মতান্তরে ৫৮ বছর এবং আরেক মতে ৫৭ বছর।

সীরেয়ে পীশভয়ন গ্রন্থের ৩০৫ পৃষ্ঠায়:ইমাম বাক্বির (আ) ১১৪ হিজরীতে মদীনায় মৃত্যু বরণ করেন।

শাওয়াহেদুন-নবুয়ত গ্রন্থের ২৪১ পৃষ্ঠায়: তিনি ১১৪ হিজরীতে ৫৭ বছর বয়সে ওফাত পান।

•ইমাম যয়নুল আবেদীন গ্রন্থের ৫১ পৃষ্ঠায়: হিজরী ১১৭ মতান্তরে ১১৮ সনে সোমবার দিন এই মহান সাধকের (ইমাম বাক্বির) ইন্তেকাল হয়।

•মুনতাহাল্ মাকাল্ ফী আহ্ওয়ালির রিজাল,খ:১,পৃ:১৫:

তিনি সেখানে (মদীনায়) ১১৪ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।আর আল্লামা মাজলিসী বলেছেন: তাঁর ওফাত হয়েছিল ৭ যিল হজ্জ।আর কাশফুল ঘুম্মায়: আল-জানাবিযী থেকে (বর্ণিত আছে): তাঁর ওফাত হয়েছিল ১১৭ হিজরীতে এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি (কাশফুল ঘুম্মার লেখক) বলেন: আর অন্যদের অভিমত:১১৮ হিজরীতে (তাঁর ওফাত হয়);আর আবূ নাঈম আল-ফাযল্ ইবনে দাকীন বলেছেন: (তাঁর ওফাতের বছর) ১১৪ হিজরী।

তাঁর শাহাদাতের পর তাঁকে বাকী গোরস্তানে তাঁর পিতা ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন যাইনুল আবিদীন (আ) এবং পিতার চাচা ইমাম হাসান ইবনে আলীর (আ) কবরের পাশে যে কুব্বায়• মহানবীর (সাঃ) চাচা হযরত আব্বাসের (রা.) কবর রয়েছে সেই কুব্বায় দাফন করা হয়।২

২:

•আন্ওয়ারুল বাহিয়াহ্:নেগহী বে যেন্দেগীয়ে চাহরদাহ মাসূম,পৃ:২২৪

•সীরেয়ে পীশভয়ন,পৃ:৩০৫

•তারীখুল খামীস ফী আহ্ওয়ালি আনফাসি নাফীস,আ:২,পৃ:২৮৬

•নূরুল আবসার,পৃ:২৯২:হযরত আব্বাসের (রা.) কুব্বায় তাঁকে সমাহিত ও দাফন করা হয়।

•আস-সাওয়াইকুল মুহরিকা,পৃ:২৪৩:বাকী গোরস্তানে হযরত আব্বাস (রা.) ও ইমাম হাসানের (আ) কুব্বায় তাঁকে (ইমাম বাক্বির) দাফন করা হয়।

এ সব গ্রন্থের লেখকদের যুগে জান্নাতুল বাকী গোরস্তানে শায়িত ও সমাহিত ব্যক্তিদের কবরের ওপর সৌধ,বার্গাহ্,কুব্বাহ ও গোম্বুজ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল ও সেগুলো বিদ্যমান ছিল এবং এ সব লেখকের অনেকেই ওয়াহাবীদের কাছেও মাননীয় ও সম্মানিত।এ ছাড়া এ সব লেখক আহল-ই সুন্নাহর কাছেও মাননীয় ও সম্মানিত আলেম।অথচ এ সব লেখক জান্নাতুল বাকীর কুব্বা,বার্গাহ,মাযার,মিনার,সৌধ ও গোম্বুজ ধ্বংস করার ফতোয়া প্রদান করেন নি এবং নির্দেশ দেন নি।আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে সমাধি ও কবরের ওপর সৌধ,বার্গাহ্,কুব্বা,গোম্বুজ,মিনার,মাযার ইত্যাদি নির্মাণ,সেগুলো সংরক্ষণ এবং তাযীম করা ছিল আপামর মুসলিম উম্মাহর ব্যবহারিক সীরাহ্ ও অনুসৃত রীতিনীতি।আর সকল ইসলামী মাযহাব নির্বিশেষে আপামর মুসলিম উম্মাহর ব্যবহারিক এ সীরাহ (السیرة العملیة ) হচ্ছে শরয়ী হুজ্জাত (প্রামাণ্য দলীল)।

কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় যে প্রায় ১০১ বছর আগে (১৯২৫ খ্রি.) মোতাবেক ১৩৪৪ হিজরীর ৮ শাওয়াল হিজায ও আরব উপদ্বীপে (অধুনা সৌদী আরব) সাম্রাজ্যবাদী বিধর্মী খ্রিষ্টান ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদ,সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতায় সদ্য প্রতিষ্ঠিত সৌদী রাজতান্ত্রিক সরকার ওয়াহহাবী প্রধান বিচারপতি আবদুল্লাহ ইবনে বুলাইহিদের নির্দেশে আহলুল বাইতের (আ) চার ইমাম:ইমাম হাসান,ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন যাইনুল আবিদীন,ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আল্-বাক্বির ও ইমাম জাফার ইবনে মুহাম্মাদ আস্-সাদিক্ব এবং মহানবীর পিতৃব্য হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের (রা.) কবর ও কুব্বা সহ বাকী গোরস্তানের সকল কবর,মাযার,কুব্বা ও বুক'আ ধ্বংস করে দেয়। ৩

৩: জান্নাতুল বাকী - মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক,পৃ:৫২

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাক্বির (আ) ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ) পৌত্র এবং ইমাম হাসানের (আ) দৌহিত্র।কারণ তাঁর মা উম্মু আব্দিল্লাহ ফাতিমা (আ) ছিলেন ইমাম হাসানের (আ) কন্যা যার সম্পর্কে ইমাম জাফার আস-সাদিক্ব (আ.) বলেছেন: তিনি ছিলেন সিদ্দীকা (পরম সত্যবাদিনী) যার মতো কোনো নারীকে ইমাম হাসানের (আ.) বংশে আর প্রত্যক্ষ করা যায় নি।*৪*

کانت صدیقة لم تُدرَک في آل الحسن مثلها

৪:

•আন্ওয়ারুল বাহিয়াহ্:নেগহী বে যেন্দেগীয়ে চাহরদাহ মাসূম,পৃ:২২৪

তাই তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক থেকেই ছিলেন আলাভী (আলী বংশীয়) এবং হাশিমী (হাশিম বংশীয়) ৫।

৫•নূরুল আবসার,পৃ:২৮৯

•আন্ওয়ারুল বাহিয়াহ,পৃ:২০৪

 ৭ যিল হজ্জ এই সুমহান ইমামের শাহাদাত উপলক্ষ্যে সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক শোক ও তাসলিয়াত।

পর্ব১ সমাপ্ত

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha